বগুড়ায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক কলেজছাত্র। বুধবার (৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের রানীরহাট এলাকায় সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই কলেজছাত্র ফাহাদ (২০) নিহত হন এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
নিহত ফাহাদ বগুড়া সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি আশেকপুর এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে স্থানীয় এলাকায় ঘুরতে বের হয় ফাহাদ। ফেরার পথে রানীরহাটে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজির সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনায় আহত পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন, বগুড়া সদর উপজেলার চেলোপাড়া এলাকার সবেদ আলী সরদারের ছেলে হানিফ (৭০), শাজাহানপুর উপজেলার জোড়া দক্ষিণপাড়ার তৌহিদুল ইসলামের ছেলে শিয়াবুর রহমান সৈকত (১৫), কাহালু উপজেলার দোয়ারী গ্রামের রমজান আলীর ছেলে নয়ন (৪০)। আহত আরও দুইজনের নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই এক তরুণ নিহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ফাহাদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে। পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারে অনেক স্বপ্ন ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বন্ধুবান্ধব ও স্থানীয়রা ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার বাড়িতে ভিড় জমায়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়কটি সরু ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। এলাকাবাসীর দাবি, দুর্ঘটনা রোধে সেখানে দ্রুত গতিরোধক ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো আশেকপুর ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তরুণ শিক্ষার্থী ফাহাদের অকাল মৃত্যু বগুড়ার তরুণ সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক ক্ষতি।
আপনার মতামত লিখুন :