ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে ধরা মাছ কয়রার খোলা বাজারে বিক্রি, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

  • প্রকাশিত : 10-09-2025
  • নিউজটি দেখেছেনঃ

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে ধরা মাছ কয়রার খোলা বাজারে বিক্রি, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী ছবির ক্যাপশন: সুন্দরবনে বিষ দিয়ে ধরা মাছ কয়রার খোলা বাজারে বিক্রি, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী
ad728

সুন্দরবনের পাশবর্তী খুলনার কয়রা উপজেলায় প্রকাশ্যে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের ঘটনা ঘটছে। বন বিভাগের তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই নদ-নদীতে শুরু হয়েছে এই ভয়াবহ কার্যক্রম। এসব বিষাক্ত মাছ সরাসরি যাচ্ছে স্থানীয় আড়ত ও খোলা বাজারে, যা খেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন কয়রার সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের নীরবতা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষ দিয়ে মাছ ধরার পেছনে রয়েছেন এলাকার কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি। ফলে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
সুন্দরবনের এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“বন রক্ষীদের চাঁদা দেওয়া এবং প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করতে গিয়ে আমাদের প্রচুর খরচ হয়। এসব সামাল দিতেই অনেক সময় বিষ প্রয়োগের মতো অসৎ পথ বেছে নিতে হয়।”
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিষ দিয়ে ধরা চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ স্থানীয় জেলেদের মাধ্যমে কয়রা মৎস্য আড়তে আসে। এর বড় একটি অংশ কেনে মাছ শুকানোর দলগুলো, যারা পরে এসব মাছ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠায়। বাকি মাছ স্থানীয় খুচরা ও পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে শুধু কয়রার বাসিন্দারাই নয়, পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,মাছের গায়ে কোনো গন্ধ নেই, রংও অস্বাভাবিক নয়। তাই মানুষ না বুঝেই খেয়ে ফেলছে। কিন্তু পরে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।”
চিকিৎসকেরা বলছেন, বিষ দিয়ে ধরা মাছ খেলে শরীরে বিষাক্ত রাসায়নিক জমা হয়, যা কিডনি, লিভার, পাকস্থলীসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের জটিলতা সৃষ্টি করে। এতে ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক বলেন,“নিয়মিত বিষাক্ত বা কীটনাশকযুক্ত মাছ খেলে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাণীর প্রজনন সুরক্ষায় প্রতিবছর জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে বন ও নদী এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই পুরোনো অনিয়ম আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে—বিষ দিয়ে মাছ ধরা, হরিণ শিকার ও পাচার বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, গত তিন মাসে সুন্দরবনে অবৈধ প্রবেশ ও শিকারবিরোধী আইনে ১৮৮টি মামলা হয়েছে, আটক করা হয়েছে ২০৭ জনকে। জব্দ হয়েছে হরিণের মাংস, মাছ ধরার ফাঁদ, নৌকা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম। তবে স্থানীয়দের মতে, এসব অভিযান কেবলমাত্র ক্ষুদ্র চক্রকে ধরছে, মূল হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সবাই জানে কারা করছে, কোথা থেকে করছে। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারে না, কারণ এদের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া।”
স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা এবং মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:বিষ প্রয়োগে মাছ ধরার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ,নিয়মিত টহল ও নজরদারি,বাজারে বিক্রিত মাছের গুণগত মান পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ,অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, প্রভাবশালীদেরও ছাড় না দেওয়া।
কয়রা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার সরকার বলেন,“আমাদের পর্যাপ্ত জনবল ও বিষ চিহ্নিতকরণ যন্ত্রপাতি নেই। এ কারণে কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে আমরা গণসচেতনতা তৈরির কাজ শুরু করেছি এবং তা চলমান থাকবে।”
সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আজ চরম হুমকির মুখে। বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার শুধু বন নয়, মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যকেও মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে যদি এই অপরাধ প্রবণতা চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।




ad728
ad728
সর্বশেষ সংবাদ
ad728
notebook

ফুলবাড়ীতে বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ad728