মৌলভীবাজার শহরের শমসেরনগর রোডে ব্যবসায়ী শাহ ফয়জুর রহমান রুবেল হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনাটি ঘটে ৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫ মিনিটের মধ্যে। সিএনজি স্ট্যান্ডসংলগ্ন ‘এফ রহমান ট্রেডিং’ নামের হার্ডওয়ার ও স্টেশনারি দোকানে অজ্ঞাত ব্যক্তি ঢুকে দোকান মালিক রুবেলকে (৫৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরদিন নিহতের পরিবার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে (মামলা নং-১৮, ধারা ৩০২/৩৪)।
ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন পিপিএম-সেবা’র নির্দেশে বিশেষ টিম গঠন করা হয়। নেতৃত্বে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খায়ের ও সদর থানার ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান। জেলা গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারাও তদন্তে যুক্ত হন।
তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমেই হত্যার পর পালাতে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশার চালককে শনাক্ত করে। তার দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়। পরে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জুড়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করে। অবশেষে ১৭ আগস্ট দুপুরে শ্রীমঙ্গলের লইয়ারকুল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে যুবক জুহেল মিয়া ওরফে জুয়েল ওরফে আলিফ (২২)-কে গ্রেফতার করা হয়। তার হাতে থাকা ব্যান্ডেজ পুলিশকে নিশ্চিত করে তোলে।
এদিকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুহেল মিয়া হত্যার দায় স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, আর্থিক কষ্ট থেকে বের হতে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল। ৬ আগস্ট পুরো শহরে ঘুরেও সুযোগ না পেয়ে পরদিন ফের শহরে আসে। শমসেরনগর রোডের পাশের দোকানগুলো পর্যবেক্ষণের পর ‘এফ রহমান ট্রেডিং’ দোকানকে টার্গেট করে। নামাজ শেষে রুবেল দোকানে ফিরলে ক্রেতা সেজে ভেতরে ঢুকে প্রথমে রঙ কিনতে চায়। পরে সুযোগ বুঝে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে হত্যা করে এবং ক্যাশ বাক্স থেকে মাত্র ১,১০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি, মাস্ক, জুতা, রক্তমাখা ২০ টাকার নোটসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার আগে পাশের দোকান থেকে কেনা দুটি এলবো ও একটি সাসপেনশন গ্লুও জব্দ করা হয়।
নিহত রুবেল মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শহরে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল ছিনতাই। তবে তদন্ত এখনো চলছে এবং অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের মানুষকে নাড়িয়ে দেওয়া এ হত্যাকাণ্ডে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে অভিযুক্ত ধরা পড়লেও শহরের সাধারণ মানুষের মনে রয়ে গেছে আতঙ্ক ও শোকের ছাপ।
আপনার মতামত লিখুন :