ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গুঁড়িয়েদেওয়া হলো অনুমোদিত ইয়ার্ড, জাহাজ ভাঙা শিল্পে ফের অনিশ্চয়তা

  • প্রকাশিত : 01-07-2025
  • নিউজটি দেখেছেনঃ

গুঁড়িয়েদেওয়া হলো অনুমোদিত ইয়ার্ড, জাহাজ ভাঙা শিল্পে ফের অনিশ্চয়তা ছবির ক্যাপশন: গুঁড়িয়েদেওয়া হলো অনুমোদিত ইয়ার্ড, জাহাজ ভাঙা শিল্পে ফের অনিশ্চয়তা
ad728

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট উপকূলে অবস্থিত ‘কোহিনুর শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড’ গুঁড়িয়েদিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত ২৫ জুন খাস জমি উদ্ধারের নামে পরিচালিত অভিযানে কোটি টাকার অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়। ঘটনাটি দেশের অন্যতম শিল্প খাত—জাহাজ ভাঙা শিল্পকেনতুন করে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তুলাতুলি মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমিতেঅবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। অভিযানে র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি, পরিবেশ অধিদফতর ও বন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযানের পরও জায়গাটি সিলগালা করা হয়নিএবং প্রবেশাধিকার বিষয়ে কোনো স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের প্রস্তুতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে।
অভিযানেরপর কোহিনুর শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিক রাজা কাশেম বলেন,“সরকারের স্বীকৃত শিল্প এলাকায় আমরা অনুমোদন নিয়েই কাজ করছি। অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠানকে এভাবে ভেঙেদেওয়া হলে, বিনিয়োগকারীরা আর কাকে বিশ্বাস করবে? এটা শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। আমরা কোনো ধরনের নোটিশ পাইনি—অথচ হঠাৎ করেই কোটি কোটি টাকারঅবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো।”
তিনিআরও দাবি করেন, “এই ভাঙচুরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। দেশের গ্রীন শিপরিসাইক্লিং নীতিমালার আলোকে অনুমোদনপ্রাপ্ত ইয়ার্ড নির্মাণ করছিলাম। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি প্রভাবশালী মহল আমাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতেচায়।”
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্সঅ্যাসোসিয়েশন (BSBRA)-এর সদস্যরা।
তারা বলেন, “পরিবেশ যাচাইসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে ইয়ার্ড গড়ে তোলা হয়েছে। এরপরওএকপাক্ষিকভাবে অভিযানের নামে শিল্প ধ্বংসকারীদের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।” অন্যদিকে, কোহিনুর ইয়ার্ড সংলগ্ন আরও দুটি ইয়ার্ডে নিয়মিত কার্যক্রম চালু থাকায় অভিযানেরগ্রহণযোগ্যতা নিয়েও জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন—একই এলাকায় দুটি ইয়ার্ড বৈধ হলে কোহিনুর কীভাবে অবৈধ হয় ?
এবিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, “এই অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বিষয়টি আমাদের অধীনে ছিল না। ইয়ার্ডে প্রবেশাধিকার
সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনার বিষয়েও আমি অবগত নই। ”প্রশাসনেরএমন অবস্থানে বিস্মিত শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “একদিকে অনুমোদন দেওয়া হয়,
অন্যদিকে একই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ হয়ে অনুমোদিত স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। এটি কেবলআইনগত অসঙ্গতিই নয়, বরং শিল্পোন্নয়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর সরাসরি আঘাত।”
সীতাকুণ্ডে শিপ ব্রেকিং শিল্প শুধু অর্থনীতির অংশ নয়, হাজারো শ্রমিকের জীবিকার মাধ্যমও। এমনঅবস্থায় অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও শিল্প প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্প এলাকায় তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।

ফলোআপ - সীতাকুণ্ডে তুলাতলী মৌজার অজুহাতে রাজা কাশেমের শিপইয়ার্ড উচ্ছেদ, ১০০ কোটি টাকার ক্ষতির দাবি




ad728
ad728
সর্বশেষ সংবাদ
ad728
notebook

ফুলবাড়ীতে বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ad728